স্বাস্থ্য ডেস্ক : ডায়াবেটিস আক্রান্তদের অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। সেই সঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার বাধানিষেধ অনেককে বাধ্য হয়েই মেনে চলতে হয়। আক্রান্তের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয় ডায়াবেটিস রোগীদের। তবে শিগগিরই চিরতরে ডায়াবেটিসকে বিদায় জানানোর দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।
রক্ত থেকে কোষের মধ্যে শর্করা প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন। দেহ এই ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ বা অথবা উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলেই ডায়াবেটিস দেখা দেয়। যেহেতু ডায়াবেটিসের কোনো নিরাময় নেই, তাই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করাই হলো এর চিকিৎসার একমাত্র উদ্দেশ্য। শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিক রোগী বিভিন্ন ধরনের জটিলতা যেমন-মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ , হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্নায়ুরোগ, কিডনি সমস্যা ও চোখের সমস্যায় ভুগে থাকেন।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস নিরাময়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার এই ডায়াবেটিস নিরাময়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন তারা। মানবদেহে যে কোষটি ইনসুলিন উৎপাদন করে, সেটি ইঁদুরের দেহে প্রতিস্থাপন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতাল ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। ছয় মাস পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছে, ইঁদুরের দেহেও ওই কোষ থেকে ইনসুলিন উৎপাদিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এটি দেহের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু ইনসুলিনই উৎপাদন করছে। এ ছাড়া দেহের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ওই কোষগুলো রক্ষা করাও সম্ভব।
মার্কিন চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার মেডিসিন অ্যান্ড নেচার বায়োটেকনোলজি’তে সম্প্রতি এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডৌগ মেলটন। তার ছেলে স্যামের জন্মের পর ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তখন থেকেই এই রোগ নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন মেলটন।
গবেষণায় অর্থ জোগানদাতা জুভেনিল ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলিয়া গ্রিনস্টেইন বলেন, ‘এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে যে ইনসুলিন নেওয়া হয় এবং বছর বা মাসব্যাপী প্রতিদিন খাদ্য রুটিন নিয়ন্ত্রণের যে জোর চেষ্টা চালানো হয়, তা বন্ধ করা।’